সড়ক, আকাশ কিংবা নদী পথ পাড়ি না দিয়েও আজ আমরা ঘুরছি বিশ্বভূবনে। দেশ, সাগর, দ্বীপ না ছুঁয়েও স্বপ্নের মতো ঘরে বসেই মিলছে রাজ্যের সব তথ্য ও সেবা। করোনাতেও দেশকে সচল রেখেছে। অচল হয়নি অর্থনীতির চাকা।

বন্যার কোপ সামাল দিয়েও ওয়েব দুনিয়া কিংবা অন্তর্জালের বুনটকে রেখেছে অক্ষুন্ন। দেশজুড়ে ইন্টারনেটের নিরবিচ্ছিন্নতা পেছনের কারিগর তারা। ঘর কিংবা পানি বন্দি মানুষকে সংযুক্ত রাখতে তেমনি অদ্যম ভূমিকা রেখে যাচ্ছে ফাইবার অ্যাট হোম। কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত নেটওয়ার্ক সচল রাখতে তারা ছুটে চলছে স্রোতের প্রতিকূলে।

কোভিডের চোখ রাঙানি উপেক্ষার সঙ্গে এখন বন্যার স্রোত সামাল দিতে হচ্ছে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের। কেন্দ্র থেকে প্রান্ত নিরবিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক সচল রাখতে প্রকৃতির রুদ্র রোষ মোকাবেলা করতে হচ্ছে নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীদের। গ্রাহকরা যেন মুহূর্তের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হন সে জন্য কাদা-পানি মাড়িয়ে কখনো নৌকায়, কখনওবা ভেলায় চেপে ফাইবার অপটিকের সুরক্ষা দিচ্ছেন ফাইবার অ্যাট হোমের তরুণ প্রকৌশলীরা। প্লাবিত অঞ্চলের ‘সিও’ বা কন্ট্রোল অফিস স্থানান্তরে ব্যস্ত ডাঙ্গার খোঁজে। নৌকায় চেপেই চলছে মেরামতের কাজ। কাঁধে হলুদ সরঞ্জামের বাক্স, মই নিয়ে তরুণ প্রকৌশলীরা ছুটছেন ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে।

জানাগেছে, সম্প্রতি মাদারিপুরের শিবচর, বান্দর খোলার সিও স্থানান্তর করতে হয়েছে। নিকটবর্তী ইউনিয়ন পপ সানভাসির চরে ইউনিয়নে সরিয়ে নিয়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে সচল রেখেছে। গাইবান্ধায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া পপ রুমকে সুরক্ষা দেয়ার পাশাপাশি নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয় সাঘাটা, জুম্মের বাড়ির সিও। এভাবেই দেশজুড়ে বন্যার পানিতে ঝুঁকির মুখে পড়ে ৮৬৭টি সিও। অতন্দ্র প্রহরীর মতো দিন-রাত পর্যবেক্ষণে রেখে ৬৪ জেলার ৪৯১টি উপজেলাস্থ ৩০৫০টি ইউনিয়নে থাকা ৩৬৯টি টাইপ সি সিও এবং ১৩০৭টি টাইপ ই পপের মাধ্যমে দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে নিরবিচ্ছিন্ন রেখেছে ফাইবার অ্যাট হোম। দেশজুড়ে ৪৮ হাজার ৩০৮ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক ব্যবহার করে গড়ে তুলেছে জাতীয় ডেটা মহাসড়ক। ঝড়-বন্যা-মাহামারি সব বৈরীতায় নেটওয়ার্ক সচল রেখে দেশকে সংযুক্ত রেখেছে জনে-জনে, বিশ্ব মহাসড়কে।
এই বিষয়ে ফাইবার অ্যাট হোমের চেয়ারম্যান ও প্রধান উদ্যোক্তা মঈনুল হক সিদ্দিকী বলেছেন, “এ ধরনের অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই পূরণ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন। যাকিনা লাখো তরুনের আশা ভরসা আর সম্ভাবনার সেতু , যা ঘুচিয়ে দেবে গ্রাম-শহরের দূরত্ব। নতুন নতুন প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোগে চাঙ্গা হবে দেশের অর্থনীতি।”